বর্তমান অবস্থায় মানুষের জীবন যাত্রার মান আধুনিক হওয়ার কারণে এখন আর গ্রামের বাড়িতে পিঠার উৎসব শীতকালে খুব কম দেখা যায়। গ্রামের হাট বাজার ও শহরে এর প্রভাব বেশি পড়েছে। কারণ শহরের মানুষ তুলনা মূলক ভাবে ব্যস্ততার কারণে পিঠা বানানোর সময় পান না। ফলে তারা শহরে গড়ে উঠা পছন্দের এসব ভাসমান পিঠার দোকান থেকে খুব সহজেই শীতের পিঠার স্বাদ নিতে পারছেন।
দিনাজপুর শহরের নিমতলা মোড়, কালিতলা থানার মোড়, সুইহারি বাসস্ট্যান্ড, নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়েস্টেশনের সম্মুখে,পাহাড়পুর ইকবালস্কুলের মোড়, জেলাস্কুলের সম্মুখে, কালিতলা প্রেসক্লাবের সম্মুখে,মহারাজা মোড়,উপশহর বাজার,হাউজিং মোড়, ফুলহাট মোড়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে, সরকারি কলেজ মোড়, বালু বাড়ী মহিলা কলেজ মোড়,রামনগর ছয় রাস্তারমোড়,কাঞ্চন ব্রিজ মোড়, চাউলিয়া পট্টি মোড়,ষষ্ঠীতলা মোড়সহ প্রায় শতাধিক স্থানে এ ধরনের ভ্যারাইটিজ শীতকালীন পিঠার দোকানে উৎসব সহকারে বিকেল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পিঠার বেচাকেনা চলে।
শহরের ফুলবাড়ী বাস স্ট্যান্ডে পিঠার ব্যবসায়ী সৈয়দ আলী(৫৫)র সঙ্গেকথা বলে যানা যায়, শীতকালীন সময়ে কার্তিক মাস থেকে তার দোকানে হরেক রকমের পিঠার আয়োজন হয়। তিনি নিজে তার দু'পুত্র আরো দু'জন কর্মচারী কে নিয়ে ৫ জন মিলে এ পিঠার দোকান সামলাতে হয়। তার দোকানে আধুনিক একটি খড়ি চুলায় ৭টি মুখ রয়েছে। একসাথে একটি চুলার ৭টি আগুনের মুখ রয়েছে। ওই ৭টি আগুনের মুখে এক সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানানোর কাজ চলে। হেমন্তর শুরুতে শীতের আগমনে তার দোকানের গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী, চিতাই পিঠা,ডিম পিঠা,ভাপা পিঠ, খেজুর গুড় দিয়ে সুগন্ধি চালের আটা মিশিয়ে সুসাদু নারকেলপিঠা,তালপিঠা,পাটিসাপটা,ঝালপিঠা,তেলপিঠা,পাওয়া যায়।
এসব পিঠের স্বাদ নিতে বিকেল থেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে পিটার স্বাদ নিতে ভিড় জমায়। এসব হরেক রকম পিঠে খেয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শীতের পিঠা উৎসবের চাহিদা পূরণ করে থাকেন।
