শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

জুনিয়র বন্ধুর পরিচয় থেকে হত্যা মামলার আসামি, দীপকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ

জুনিয়র বন্ধুর পরিচয় থেকে হত্যা মামলার আসামি, দীপকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিইউটি অফিসার এএসআই মোস্তাফিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, উত্তরখান থানায় তার বাবার করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতে পাঠানো হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করব।

এর আগে, আজ সকালে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। 

উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাহসিফের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের কাছ থেকে নিতে হবে।

এর আগে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। 

এর আগে, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দীপকে দেখা যায়। তারা হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।

পরিবারের কাছে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা হওয়ায় তারা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের চলাফেরা ও যোগাযোগ নিয়ে পরে তদন্ত শুরু হয়।

পরে ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার জুনিয়র বন্ধু দীপকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুক্রবার তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যায় পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি কালো রঙের সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে দীপের এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিবিআই তার বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতি যাচাই করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিলেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। ছেলে সাঁতার জানতেন। ফলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে, এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এখন বাবার করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো দীপকে।